ভাদুঘর শাহী জামে মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য খুবি পরিচিত একটা স্থান তা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এখানে আছে পুরানো দিনের অনেক স্মৃতি অনেক দর্শনীয় স্থান সমূহ। হাতে একটা দিন সম করে ঘুরে দেখে আসতে পারেন। তেমনি আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর শাহী মসজিদ অন্যতম। মুসলিম শাসক আওরঙ্গজেব ভারতবর্ষের মোঘল শাসকদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি সুন্নি মতাদর্শ ভিত্তিক হানাফি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি কোরআনে হাফেজ ছিলেন।


তিনি একজন যথার্থ বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব ফতোয়ায়ে আলমগীরী রচিত হয়। ইসলামের প্রতি আনুগত্য ও কঠোর ধর্মানুরাগী দরবেশ আওরঙ্গজেবকে জিন্দাপীর উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর রাজত্বকালে উপমহাদেশের অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা স্থাপিত হয়। তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অধীন সরাইল পরগণায় যে সব মুসলিম শাসক ছিলে তারা সম্রাট আলমগীরের নির্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্তর্গত ভাদুঘর গ্রামে ঐতিহাসিক “শাহী মসজিদ” নির্মাণ করেন।

ভাদুঘর শাহী জামে মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া


ভাদুঘর শাহী জামে মসজিদ

ভাদুঘর শাহী মসজিদ প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্গত ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। এই মসজিদ সম্মুখস্থ বিশাল ঈদগাহ ময়দানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


নির্মাণের ইতিহাস

পাক-ভারত উপমহাদেশে প্রায় ৭০০ বছর মুসলিম শাসন বিদ্যমান ছিল। যার মধ্যে মুঘল শাসকগণ অন্যতম। এই মুঘল শাসকগণের মধ্যে জিন্দাপীর বলে খ্যত মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর (১৬৫৮-১৭০৭) অত্যন্ত খোদাভীরু শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই মহান বাদশাহ মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর এর রাজত্বকালে ১০৮৪ হিজরি আনুমানিক ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সে সময়কার সরাইল পরগণার জমিদার নুর এলাহী ইবনে মজলিশ শাহবাজের তত্ত্বাবধানে ঐতিহাসিক ভাদুঘর শাহী মসজিদ নির্মিত হয়


নির্মাণশৈলী

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির আয়তন ৪৪ ফুট বাই ২৪ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ১২ ফুট বাই ৯ ফুট পরিমিত ভিতে স্থাপিত মিনারটির উচ্চতা ৭৫ ফুট। মসজিদের অভ্যন্তরীণ কারুকার্যের মথধ্য কলসের মধ্য হতে বের হয়ে আসা একটি করে হাত প্রসারিত অবস্থায় ছিল। যা অন্য কোন মসজিদে দেখা যায়নি। মসজিদে কালো পাথরে ফারসি ভাষায় লিপি রয়েছে। যা থেকে এর ইতিহাস জানা যায়।


ইমামতি

ভাদুঘর শাহী মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হন বাদশাহ আলমগীরের শিক্ষক, তাফসীরাতে আহমদিয়া এবং নুরুল আনোয়ার এর মত বিখ্যাত গ্রন্থসমুহের লেখক শায়খ আহমদ ইবনে আবু সাঈদ ইবনে ওবায়দুল্লাহ আল হানাফী আস সিদ্দিকী [শায়খ মোল্লাজিউন (রহ)] এর যোগ্য উত্তরসূরি মাওলানা মোল্লা নাসিরউদ্দিন (রহ)। তিনি এই মসজিদের ইমাম এবং খতিবের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আসার পর আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত এর অনুসারীদের নিয়ে এ এলাকায় সুন্নীয়তের এক শান্তিপুর্ণ আবহ তৈরী করেন। তার যোগ্য উত্তরসূরি সুন্নী আলেমগণ বংশ পরম্পরায় অদ্যাবধি ভাদুঘর শাহী মসজিদের ইমাম ও খতিবের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মন্তব্যসমূহ